ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একযোগে ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তর কোরিয়া শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে পূর্ব সাগরের দিকে একযোগে ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জেসিএস জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়ার সুনান এলাকা থেকে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এর পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য ভাগাভাগি করা হচ্ছে এবং যৌথভাবে প্রস্তুতিমূলক অবস্থান বজায় রাখা হচ্ছে।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে সমুদ্রে পতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টেও এ ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এটি প্রথমবারের ঘটনা নয়। এর আগে গত বছরের ২৭ জানুয়ারি উত্তর কোরিয়া পূর্ব সাগরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের নীতি বিষয়ক উপ-আন্ডারসেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি এশিয়া সফরে ছিলেন।

নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে। গত ৯ মার্চ শুরু হওয়া এই মহড়া চলতি মাসের ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া এই মহড়াকে ‘আক্রমণাত্মক’ আখ্যা দিয়েছে।

কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-বিভাগীয় পরিচালক কিম ইয়ো-জং মহড়া শুরুর পরদিন এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, “শত্রুপক্ষের বাহিনী আমাদের দেশের সার্বভৌম নিরাপত্তা অঞ্চলের কাছাকাছি যে সামরিক উসকানি চালাচ্ছে, তা কল্পনাতীত ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।”

জেসিএস আরও জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিভিন্ন উচ্চতায় নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং তার মাধ্যমে অঞ্চলকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের নিক্ষেপ উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে এবং পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিলতর করতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান বিষয়টিকে খুবই গুরুতর বিবেচনা করছে। তারা বলছে, “এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।”

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, অঞ্চলে যে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কার্যক্রম তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ করা হবে। তাদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকে সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, তবে এটি তীব্র পর্যবেক্ষণের বিষয়।

নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তর কোরিয়ার এই ধরনের নিক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বড় সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিতে পারে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর