ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হলো বিপর্যস্ত কিউবা


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তীব্র জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত কিউবা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট দিয়াজ কানেল জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজতেই এই আলোচনার সূচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা মেটানোর। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের জনগণকে আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।”

গত কয়েক মাস ধরে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দ্বীপটিতে তেল সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, “এটি বন্ধুত্বপূর্ণ দখলও হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।”

ওয়াশিংটনের ‘আমেরিকান ইউনিভার্সিটি’-এর গবেষক ও অর্থনীতিবিদ রিকার্ডো তোরেস মনে করেন, ট্রাম্পের চাপ এবং কিউবার তীব্র জ্বালানি সংকটই হাভানাকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছে। তার ভাষ্য, “দেশটি কেবল টিকে থাকার চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য, ওষুধ এবং জ্বালানির তীব্র সংকট চলছে। কিউবার আর কোনো বিকল্প নেই, তাদের আলোচনায় বসতেই হবে।”

কিউবার বর্তমান দুরবস্থা শুরু হয় ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের পর। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় তাদের তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অন্য কোনো দেশ যদি কিউবাকে তেল সরবরাহ করে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও আগেই দেওয়া হয়েছিল।

প্রায় ৭০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা একে অপরের কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী। এই বিরোধ শুরু হয় ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাসক ফুলজেনসিও বাতিস্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, কিউবার প্রধান সমস্যা হলো দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট আমলাতন্ত্র, যা আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। অন্যদিকে কিউবার কর্মকর্তারা দ্বীপটির অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য ৬০ বছরেরও বেশি পুরোনো মার্কিন বাণিজ্য অবরোধকেই দায়ী করছেন।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কিউবা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই আলোচনার মাধ্যমে দুপক্ষের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, যদি আলোচনায় বাস্তবসম্মত সমাধান বের হয়, তাহলে কিউবার জনগণের জীবনমানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসতে পারে।

প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো কিউবার জনগণের জীবন-জীবিকা ও খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ পুনরায় স্থিতিশীল করা। প্রেসিডেন্ট দিয়াজ কানেল আশ্বস্ত করেছেন, আলোচনার মাধ্যমে দেশটি আবারও স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর