ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এবার ভারতের কাছে এখন হাত পাতছে যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪৪ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার তেল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শনিবার (১৪ মার্চ) তিনি দাবি করেছেন, আগে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করতে ভারতকে চাপ প্রয়োগ করলেও, এখন ওয়াশিংটন ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে একই তেল কেনার জন্য হাত পাতছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাঘচি লিখেছেন, রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করতে বলে মাসের পর মাস ভারতকে ধমকিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। হোয়াইট হাউস এখন ভারতসহ বিশ্বব্যাপী রাশিয়ার তেল কেনার জন্যই সাহায্য চাইছে।

আরাঘচি ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউরোপ ভেবেছিল ইরানের বিরুদ্ধে এই ‘অবৈধ’ যুদ্ধে সমর্থন জানালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন সমর্থন পাওয়া যাবে। তবে বাস্তবে এটি হয়েছে দুঃখজনক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ছিল, ভারত রাশিয়ার তেল কেনার ফলে ভ্লাদিমির পুতিন অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছেন, যা ইউক্রেনের যুদ্ধে কাজে লাগছে। তাই রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করতে ভারতকে চাপ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ভারতের রাশিয়া থেকে আসা পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপও করেছিলেন ট্রাম্প।

তবে পরবর্তীতে এই শুল্ক তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস দাবি করে, ভারত এখন রাশিয়ার তেল আমদানি কমিয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার প্রথম থেকেই জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও নীতির বাইরে কোনো দেশের নির্দেশ মানা হয় না।

পরিস্থিতি বদলে যায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে, যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল প্রবাহ বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান। এর ফলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিপাকে পড়ে। এই অবস্থায় বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। এরপরেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেছে।

আরাঘচি বলেন, “বর্তমান বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণ প্রদর্শন করছে তাদের দ্বৈতনীতি ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অমান্য করার প্রবণতা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা বজায় রাখতে সব দেশেরই দায়িত্ব রয়েছে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন যে, তাদের দ্বৈতনীতি ও চাপ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভারতের জাতীয় স্বার্থের প্রতি হস্তক্ষেপ করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর