ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধ তখনই বন্ধ হবে, যখন আমি আমার অন্তর থেকে অনুভব করব: ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:১৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি সম্পর্কে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার, ১৩ মার্চ, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় যুদ্ধ কখন শেষ হবে—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা পরিকল্পনা উল্লেখ না করে বলেন, "যুদ্ধ তখনই বন্ধ হবে, যখন আমি আমার অন্তর থেকে অনুভব করব।"

এই মন্তব্যে ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি বিষয়ে কৌশলগত বা নীতি নির্ধারক দিকের চেয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, এমনই ধারণা অনেক বিশ্লেষকের। সাধারণত যেকোনো যুদ্ধের অবসান কৌশলগত চুক্তি, সামরিক লক্ষ্য অর্জন, বা আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ট্রাম্পের এই উক্তি ইঙ্গিত দেয় যে, তার ব্যক্তিগত উপলব্ধিই মূল সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।

বিশ্লেষকরা বলেন, এটি এমন এক ধরণের 'অস্পষ্ট' অবস্থান, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। মিত্র দেশ প্রতিপক্ষ উভয় পক্ষই এখন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অনেক প্যানেল আলোচক মনে করেন, এই ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি সমরনীতি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্পের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের মন্তব্য প্রতিপক্ষকে অব্যাহত সতর্কতায় রাখার পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। ফলস্বরূপ, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের এমন ধরণের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত যুদ্ধ সমাপ্তির প্রক্রিয়াকে প্রচলিত কূটনৈতিক সামরিক কাঠামো থেকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। তারা মনে করেন, এটি একদিকে ট্রাম্পের স্বতন্ত্র নেতৃত্বের প্রকাশ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক প্রকার অজানা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, মিত্র দেশগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা, সামরিক মোতায়েন অর্থনৈতিক প্রভাবকে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া, রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উপলব্ধি অন্তর্দৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল হতে পারে কি না।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, সিএনএন বিশেষভাবে ট্রাম্পের মন্তব্যকে মার্কিন নীতি সামরিক সিদ্ধান্তের দিক থেকে বিশ্লেষণ করছে। মন্তব্যটি কেবল সামরিক পরিকল্পনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতি, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করছে।

মোটকথা, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে নতুন ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সামরিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে, যেখানে যুদ্ধের সমাপ্তি কেবল কৌশলগত নয়, বরং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর