অনলাইন রিপোর্টার
আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যেও দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা এবং পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা পরিশোধ সহজ করতে সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে এ সংক্রান্ত সার্কুলার পাঠিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়া ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর সংলগ্ন ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা থাকবে। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।
পোশাক শিল্প অধ্যুষিত এলাকায়, বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শিল্পঘন এলাকায় ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ১৮ ও ১৯ মার্চ। নির্ধারিত ব্যাংক শাখাগুলো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাবে, তবে গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের জন্য বিরতি থাকবে। এই ব্যবস্থা শিল্প এলাকায় বেতন ও বোনাস পরিশোধের চাপ সামলানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সুবিধার্থে বন্দর সংলগ্ন ব্যাংক শাখাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১৭ মার্চ এবং ২০ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত লেনদেনের সময়সূচী ব্যাংকগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারণ করবে। তবে ২১ মার্চ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে যদি পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়, সেদিন দেশের সকল ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগে ঈদের ছুটির দীর্ঘ সময়েও দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য এবং শিল্প খাতের আর্থিক লেনদেনে স্থবিরতা দেখা দেবে না বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই বিশেষ সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকির মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা ছুটির দিনগুলোতেও জরুরি ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক শাখাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকদের তথ্য ও লেনদেনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শাখাগুলোতে সময়মতো কর্মকর্তা উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এই বিশেষ ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থার প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আকাশজমিন / আরআর