ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেঁচে নেই নেতানিয়াহু? সামাজিক মাধ্যমে তুঙ্গে জল্পনা


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬ সময় : ১:১৩ এএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu আদৌ বেঁচে আছেন কি না—এ নিয়ে নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়ে তার একাধিক ভিডিওকে ঘিরে ‘ভুয়া’ বা কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। ফলে এই বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই গুঞ্জন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন মহলের দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর মতোই নাকি আড়ালে চলে গেছেন বা মারা গেছেন নেতানিয়াহু। যদিও এসব দাবির পক্ষে এখনো পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি। তবুও দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় সন্দেহ ও জল্পনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে নেতানিয়াহুর হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে বলে দাবি করেন অনেকে। বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকেই এটিকে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। আরেকটি ভিডিওতে কখনো তার হাতে আংটি দেখা যাচ্ছে, আবার কখনো তা হঠাৎ উধাও হয়ে যাচ্ছে—যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, এসব লক্ষণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভিডিওর ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। বর্তমানে উন্নতমানের ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করা সম্ভব, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে শনাক্ত করা কঠিন। ফলে এমন ভিডিওগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

এদিকে, নেতানিয়াহুর পরিবারের দিক থেকেও অস্বাভাবিক নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি করেছেন নেটিজেনরা। তার ছেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, যেখানে আগে নিয়মিত পোস্ট করা হতো, সেখানে গত ৯ মার্চের পর থেকে আর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন। এই নীরবতাও সন্দেহকে আরও উসকে দিচ্ছে।

গত রোববার নেতানিয়াহুর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে তাকে কফির কাপ হাতে বলতে শোনা যায়, “আমি কফির জন্য মরতেও রাজি।” ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। তবে পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু দাবিতে বলা হয়, এআই টুল ‘গ্রক’ ভিডিওটিকে ‘ডিপফেক’ হিসেবে শনাক্ত করেছে। যদিও এই দাবিরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এছাড়া আরেকটি ভাইরাল ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে জেরুজালেমের রাস্তায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। কিন্তু সেখানেও একই ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। কেউ কেউ বলছেন, ভিডিওর আলো, ছায়া ও মুখের অভিব্যক্তিতে অস্বাভাবিকতা রয়েছে, যা কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।

এ ধরনের ভিডিও ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চাঞ্চল্যকর বা বিতর্কিত বিষয়গুলো দ্রুত ভাইরাল হওয়ায় যাচাই-বাছাইয়ের আগেই সেগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্যও অনেক সময় সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে নেতানিয়াহুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না থাকায় গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলেই মনে করছেন অনেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শীর্ষ নেতাদের জনসমক্ষে উপস্থিতি অনেক সময় সীমিত করা হয় নিরাপত্তাজনিত কারণে। সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু জনসমক্ষে না এলেও তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ বা আহত থাকতে পারেন—যার কারণে প্রকাশ্যে আসছেন না।

এছাড়া তথ্যযুদ্ধ বা ‘ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার’-এর অংশ হিসেবেও এ ধরনের গুজব ছড়ানো হতে পারে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ শুধু সামরিক ময়দানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তথ্য ও প্রচারণার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব বহন করে। প্রতিপক্ষকে দুর্বল বা বিভ্রান্ত করতে এ ধরনের গুজব ছড়ানো একটি পরিচিত কৌশল।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি সংক্রান্ত খবরের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করা জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুকে ঘিরে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা মূলত অনিশ্চয়তা, তথ্যের ঘাটতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভ্রান্তির সম্মিলিত ফল। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য না আসছে, ততক্ষণ এসব গুঞ্জনকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সবশেষে বলা যায়, নেতানিয়াহুর জীবিত থাকা বা না থাকা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা এখনো প্রমাণিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়। বরং এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক একটি জল্পনা, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বাস্তবতা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্রের নিশ্চিত ঘোষণার জন্য।


এ সম্পর্কিত আরো খবর