ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানকে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ বললেন পুতিন, পাশে থাকার অঙ্গীকার


  • আপলোড সময় : শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৬:২৬ পিএম

ইরানের নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে দেশটির নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মস্কো তেহরানের একনিষ্ঠ বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। শনিবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বার্তায় পুতিন বলেন, কঠিন এই সময়ে ইরানি জনগণ মর্যাদার সঙ্গে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠবে বলে তিনি আশা করেন। ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযান গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

এছাড়া পুতিন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনাকে ‘নিষ্ঠুর’ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানান। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মস্কোর এই সমর্থনের প্রকৃত গভীরতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ইরানের কিছু সূত্র দাবি করেছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই সংকটে রাশিয়ার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য বাস্তব সহায়তা পাওয়া যায়নি। যদিও দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পরিচিত, তবুও তাদের মধ্যে এমন কোনো চুক্তি নেই, যেখানে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা উল্লেখ আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্ক মূলত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা এড়াতে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, সে বিষয়ে রাশিয়া বরাবরই সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক জটিল ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

এরই মধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ক্রেমলিন ওয়াশিংটনকে একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে, তবে মস্কোও ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় সীমিত করবে। তবে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যদিও ক্রেমলিন এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এ ধরনের খবরকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে মিত্র হারানোর পর মস্কোর জন্য তেহরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা রাশিয়ার অর্থনীতিকে কিছুটা সুবিধা দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে, তেহরানের প্রতি পুতিনের এই সংহতি বার্তা রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করলেও, বাস্তবে তারা কতটা কার্যকর সহায়তা দেবে তা এখনো অনিশ্চিত। আপাতত দুই দেশের সম্পর্ক কূটনৈতিক সমর্থনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

আাকশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর