ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হরমুজে বাণিজ্য রক্ষায় টাস্ক ফোর্স গঠন করবে জাতিসংঘ


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৮ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৫৬ পিএম

অনলাইন ডেস্ক:

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহন সচল রাখতে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান ইরান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানবিক পরিস্থিতির ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই সংঘাত কমাতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’ তার মতে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্য ব্যাহত হলে এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে, বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়।

দুজারিক জানান, আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিল্ভার নেতৃত্বে এই টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। টাস্ক ফোর্সটির প্রধান লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের বিঘ্ন দ্রুত মোকাবিলা করা।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ পূর্ববর্তী বিভিন্ন সফল প্রকল্প থেকে অনুপ্রেরণা নেবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ এবং গাজার ইউএন২৭২০ মেকানিজম। এসব প্রকল্প যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

জাতিসংঘের এই টাস্ক ফোর্স ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করবে বলে জানা গেছে। দুজারিক বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সংশ্লিষ্ট সব দেশ এই উদ্যোগকে সমর্থন দেবে, বিশেষ করে সেইসব মানুষের স্বার্থে যারা ইতোমধ্যে এই সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। ইতোমধ্যে সারের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে, ফলে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে জুন মাস পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী কয়েক কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে এর প্রভাব হবে সবচেয়ে বেশি।

এ অবস্থায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান এবং বাণিজ্য পথ নিরাপদ রাখা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে না পারলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর