ক্রীড়া ডেস্ক
বিগ ব্যাশ লিগের অভিষেক মৌসুমেই নজর কাড়লেন রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হারিকেন্স–এর হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে এবার মৌসুমসেরা বিগ ব্যাশ খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেয়েছেন এই বাংলাদেশি লেগস্পিনার।
প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশে খেলতে নেমেই রিশাদ নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। পুরো মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি হয়ে ওঠেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বোলার। তার ঘূর্ণিতে কাবু হয়েছে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা, যা হোবার্ট হারিকেন্সকে প্লে-অফে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
যদিও শেষ পর্যন্ত প্লে-অফ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে, তবুও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন রিশাদ। ১১ ইনিংসে বল করে তিনি নিয়েছেন ১৫ উইকেট, যা হ্যারিকেন্সের হয়ে সর্বোচ্চ। ওভারপ্রতি ৭.৮২ রান খরচ করে ২০.৮৬ গড়ে উইকেট নেওয়া এই স্পিনারের সেরা বোলিং ২৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট।
রিশাদের পাশাপাশি হোবার্ট হারিকেন্সের মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেয়েছেন নাথান এলিস, ক্রিস জর্ডান এবং নিখিল চৌধুরী। এই চারজনের মধ্য থেকেই একজনকে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।
বিগ ব্যাশ ২০২৫-২৬ মৌসুমের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি দিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেবে ক্রিকেট তাসমানিয়া। এ উপলক্ষে আগামীকাল সংস্থাটির বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে এবং পরদিন তা ওয়েবসাইট ও সদস্যদের ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে।
রিশাদ শেষ পর্যন্ত এই পুরস্কার জিততে পারবেন কি না, সেটি এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে ইতোমধ্যেই ভক্তদের সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। হোবার্ট হারিকেন্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে কমেন্টে রিশাদের পক্ষেই বেশি সমর্থন দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। বিশেষ করে লেগস্পিনার হিসেবে রিশাদের ধারাবাহিকতা তাকে আলাদা করে তুলেছে। তার পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই মৌসুমে নিজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা দেখিয়ে রিশাদ প্রমাণ করেছেন, তিনি বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তার হাতেই ওঠে কি না।