ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠার সম্ভাবনা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:১২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যদি সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং ইরানের জ্বালানি স্থাপনা বা হরমুজ প্রণালি লক্ষ্য করে হামলা হয়, তাহলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক টামাস ভার্গা বলেছেন, প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে তা বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলবে এবং তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। তার মতে, “এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখোমুখি হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র, বিশেষ করে খার্ক দ্বীপ, দখল বা ধ্বংস করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানের তেল রপ্তানিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে এবং বাজারে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পথ ইতোমধ্যেই আংশিকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যদি প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা ইউরোপেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। জার্মানি ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর ব্যবসায়ীরা বাড়তি খরচের কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত হচ্ছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘাত দ্রুত না থামলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে।

বিশ্ববাজারে তেলের এই অস্থিরতা শুধু জ্বালানি খাতে নয়, সমগ্র অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। তেলের দামের বৃদ্ধি পণ্য ও পরিবহন খরচ বাড়াচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তেল আমদানিকারক দেশগুলোও সঙ্কটের মুখোমুখি হচ্ছে।

অপরদিকে, তেলের মূল সরবরাহকারী দেশগুলো পরিস্থিতি মনিটর করছে। সংস্থা ও কোম্পানিগুলো তাদের স্টক, উৎপাদন ও রপ্তানি পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান না আসা পর্যন্ত বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা চলতেই থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য এই সংকট থেকে দ্রুত বেরোনোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর