ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রেমিকাকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখলেন প্রেমিক!


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:১৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে একটি হত্যাকাণ্ডে ছাড়া পড়েছে দেশের এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর। অভিযোগ উঠেছে, প্রেমিক চিন্তাদা রবীন্দ্র তার প্রেমিকা পলিপাল্লি মৌনিকাকে হত্যা করার পর দেহ থেকে মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করেছেন এবং কিছু অংশ ফ্রিজে রেখেছেন। এখনও প্রেমিকার বিচ্ছিন্ন মাথা খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, রবীন্দ্রের স্ত্রী সম্প্রতি তার বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। সেই সুযোগে রবীন্দ্র তার প্রেমিকাকে নিজের বাড়িতে ডাকেন। মৌনিকার আগমনের পর তাদের মধ্যে ঝগড়া বেধে যায়। একপর্যায়ে রবীন্দ্র প্রেমিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর অনলাইনে একটি ছুরি কিনে দেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, রবীন্দ্রের বয়স ৩০ বছর এবং তিনি ভারতের নৌবাহিনীতে একজন কর্মকর্তা। ২০২১ সালে তারা প্রথম ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচিত হন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় দেখা করার পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা পার্ক ও থিয়েটারে দেখা করতেন।

ঘটনার দিন রবীন্দ্র প্রেমিকাকে একান্তে সময় কাটানোর জন্য নিজের বাড়িতে ডেকে আনেন। তবে সন্ধ্যার মধ্যে তাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঝগড়ার একপর্যায়ে রবীন্দ্র মৌনিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তারপর অনলাইনে ছুরি ক্রয় করে দেহের মাথা, হাত এবং পা বিচ্ছিন্ন করেন। মৌনিকার পা তিনি একটি ট্রলি ব্যাগে রাখেন এবং অন্যান্য অংশ ফ্রিজে রেখে দেন।

পরবর্তীতে রবীন্দ্র থানায় হাজির হন এবং ঘটনার দোষ স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেছেন, সম্পর্ক চলাকালীন মৌনিকা তার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ রুপি নিয়েছিলেন এবং বারবার হুমকি দিতেন যে সম্পর্কের তথ্য তার স্ত্রীকে জানিয়ে দেবেন। এই কারণে তাদের মধ্যে ঝগড়া এবং সহিংসতা বাড়তে থাকে।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সম্পর্ক ফাঁসের হুমকি এবং টাকার লেনদেনের কারণে তাদের মধ্যে বারবার বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ সব দিক যাচাই করছে। পুলিশ আশা করছে, তদন্ত শেষ হলে সঠিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই হত্যাকাণ্ড সামাজিক সচেতনতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরোধ কখনোই সহিংসতার পথ না হওয়া উচিত। পাশাপাশি সামাজিক এবং মানসিক সহায়তার গুরুত্ব বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের জটিলতা, অর্থনৈতিক লেনদেন এবং হুমকির কারণে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সম্প্রদায় এবং পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে আইন সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর