ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে লাগবে ১৫–২০ বছর: ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৫৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতায় বড় ধাক্কা লেগেছে। তার মতে, এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে ইরানের অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগতে পারে। এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং অবকাঠামো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দেশটির সামরিক শক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, এই হামলার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হবে। শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব স্থাপনা পুনর্গঠন এবং সামরিক সক্ষমতা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ইরানের বহু বছর সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ওপর হামলার প্রভাব বিশেষভাবে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক ঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এই হামলার ফলে ইরানের সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের এমন সক্ষমতা দুর্বল করা, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি ইরান আলোচনা করতে চায়, তাহলে তারা আলোচনার টেবিলে আসতে পারে। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আলোচনা কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয়।

ট্রাম্পের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থ ও মিত্রদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানকে চাপের মধ্যে রাখার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। সামরিক হামলার প্রভাব নিয়ে এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছেন বলেও অনেকে মনে করছেন।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের দাবির বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের সামরিক সক্ষমতা অটুট রয়েছে এবং দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা এবং পাল্টা উত্তেজনার কারণে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমাধান না এলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর