ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

জবি শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে ক্লাসে, নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদ


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি)

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৩০ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ চালাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে অংশ নিচ্ছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন। ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝে মাঝে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এর আগেও গণিত বিভাগের একটি শিক্ষক কক্ষে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

নিরাপত্তার কারণে গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শুরু করেছেন। শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, “কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে, তা বলা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে হেলমেট ব্যবহার করছি।”

আরেক শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, “বুধবার (১ এপ্রিল) আমার দুই ভাই আহত হয়েছেন, অথচ প্রশাসন এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেনি। ক্লাস-পরীক্ষা চালু রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে বসে পরীক্ষা দিতে শঙ্কা থেকেই হেলমেট ব্যবহার করছি।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নেতারা প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প না থাকায় সেখানে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। তারা কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, ফলস সিলিং থাকার কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে ধরা পড়েনি; বর্তমানে সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ শিগগিরই সম্পন্ন হওয়ার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর