ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সৌদির মার্কিন দূতাবাসে হামলার দায় ইসরায়েলের, ইরান স্বচ্ছ : আইআরজিসি


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:০৮ পিএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে, এবং এ ঘটনায় ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ‘জায়নবাদী শত্রু’ ইসরায়েলের কৌশলের অংশ। আইআরজিসি জানিয়েছে, এ হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ইরানি সশস্ত্র বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সকল মধ্যপ্রাচ্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। এ হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে এবং বহু মানুষ হতাহত হন।

ইরান এই হত্যাযজ্ঞের জবাবে মধ্যপ্রাচ্য এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মাধ্যমে ইরানি বাহিনী তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিশোধমূলক কৌশল অবলম্বন করেছে।

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ইরান যে কোনো সময় তাদের লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলার পরিকল্পনা করে এবং এর মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

নিপীড়ক হামলার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সতর্কতা প্রয়োজন বলে আইআরজিসি মনে করছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ষড়যন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী সর্বদা তাদের দেশের আকাশসীমা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আগাম হামলা প্রতিহত করার জন্য সর্বদা সতর্ক থাকে এবং শত্রুপক্ষকে যথাযথ জবাব দেয়।

সাম্প্রতিক এই হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের হামলা শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাবও সৃষ্টি করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও, সাম্প্রতিক ঘটনার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষায় তৎপর হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর