ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

হবিগঞ্জে মিড ডে মিল কর্মসূচিতে ভয়াবহ অনিয়ম: শিক্ষার্থীরা পুষ্টিহীন


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৮:৩৭ পিএম

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু হওয়া মিড ডে মিল কর্মসূচিতে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) নির্ধারিত দিনে ডিম ও রুটি সরবরাহের কথা থাকলেও উপজেলার অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কিছুই পাননি।

জানা গেছে, বাহুবল উপজেলার ১০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ শিক্ষার্থীদের জন্য সিদ্ধ ডিম ও রুটি বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, প্রধান সড়কের পাশের কয়েকটি বিদ্যালয়ে মাত্র ডিম বিতরণ করা হয়েছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে রুটি দেওয়া হয়নি, এমনকি অনেক শিক্ষার্থী ডিমও পাননি।

মিড ডে মিল কর্মসূচিতে দুধ ও বিস্কুট বিতরণের কথাও থাকলেও তা কোনো বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়নি। সপ্তাহে একদিনের এই কর্মসূচিতে অনেক সময় কেবল বিস্কুট দেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সরকারের ভালো উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে ঠিকাদারি অনিয়ম এবং দুর্বল তদারকির কারণে ভেস্তে যাচ্ছে। লাকুড়ীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্বল মিয়া জানান, “দুই মাস আগে কেবল বিস্কুট পেয়েছে শিক্ষার্থীরা, এ ছাড়া কিছুই জুটেনি।”

বড়গাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, “আজকে শুধু একটি ভাঙা নষ্ট ডিম দেওয়া হয়েছে।” গোলগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, “আমাদের শিক্ষার্থীদের ভাগ্য নেই, বরাদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কিছুই পাইনি।” বিহারীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহেনা আক্তার বলেন, “আজ একজন এসে শুধু ডিম দিয়েছে।”

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, “আমি বর্তমানে সিলেটে আছি। ডিম-রুটি কেন শিক্ষার্থীরা পাননি, তা খুঁজে দেখছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্বল রায় বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কি করছে নাকি তারা অনিয়মে জড়িত। এমন বড় ধরনের অনিয়মের পরও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর