অনলাইন রিপোর্টার
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সমন্বয় দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে।
নতুন সমন্বয় অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, ৬ এপ্রিল সকালে বাজুস ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল। সেই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা। এই দাম সমন্বয় সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৫৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ দফা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, ২২ দফা দাম কমানো হয়েছে। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
এছাড়া, স্বর্ণের সঙ্গে দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। এবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, চলতি বছরে রুপার দাম ৩২ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি ১৪ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল, এবং মাত্র ৩ বার দাম কমানো হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার মূল্যের ওঠানামা এবং স্থানীয় চাহিদা–সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের বাজারে এই দাম সমন্বয়ের কারণ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে।
ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই নতুন দাম অনুসারে বাজারে স্বর্ণ ও রুপার ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারণ করা হবে। বাজুসের নিয়মিত বাজার সমন্বয় ভোক্তাদেরকে স্বর্ণ ও রুপার বাজারে বর্তমান মূল্যের সঠিক ধারণা দেয় এবং স্থানীয় বাজারে সঠিক মূল্যমান স্থির রাখতে সহায়তা করে।
আকাশজমিন / আরআর