ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:১১ পিএম

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি ৮নং ওয়ার্ডের পানিয়ার টারি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি এলাকার বাসিন্দা।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনে ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫ এস সংলগ্ন শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে সাতগ্রাম বিএসএফ ক্যাম্পের এলাকায় রাত ২টা ৫০ মিনিট এবং ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে পৃথকভাবে দুই দফায় গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনার পর সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়।

বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় সাত থেকে আট জন বাংলাদেশি তারকাটা বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে গেলে তারা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তি হয় এবং গুলিবর্ষণের সময় আলী হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিএসএফ সদস্যরা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ভারতীয় হাসপাতালে পাঠান, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৬১ বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত যাচাই বাছাই ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটছে। তবে বৃহস্পতিবার ভোরের এই গুলিবর্ষণে একজন নিহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের সীমান্তিক সংঘর্ষ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এই এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত করেন। চোরাকারবারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বা সীমান্তে গুলি বর্ষণের ঘটনা স্থানীয়দের জন্য এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, “এই ঘটনার পর উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় ও তথ্য ভাগাভাগি অত্যন্ত জরুরি। যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।”

এছাড়া, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত পরিদর্শন, নজরদারি ও স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। নিহত আলী হোসেনের পরিবার ও স্থানীয়রা আশা করছেন, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এ ঘটনার পর পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা খুবই জরুরি। এ ধরনের ঘটনা না ঘটলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখা সম্ভব হবে।

আকাশজমিন / আরআর    


এ সম্পর্কিত আরো খবর