ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কুড়িগ্রামে সন্তানকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আঁকুতি


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৩২ পিএম

আনারুল ইসলাম রানা, কুড়িগ্রাম: 

কুড়িগ্রামে জন্ম থেকে হার্টের ফুটো ও ভাল্ব সমস্যায় আক্রান্ত মেয়েকে বাঁচাতে চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহ করতে না পেরে এক বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ। অসুস্থ্য মেয়ের দশ মাস বয়সী শিশু সন্তান মায়ের বুকের দুধ ঠিকমতো না পাওয়ায় সেও রয়েছে ঝুঁকিতে। ফলে সন্তান ও নাতীর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির। 

দিনমজুর পরিবারটির সম্বল বলতে মাথা গোঁজার ১৪ শতক জমি। সেই জমির দুই শতক বিক্রি করে এতদিন মেয়ের চিকিৎসা করা হয়েছে। এখন চিকিৎসকগণ মেয়ে ও তার সন্তানের নিরাপত্তার জন্য দ্রততম সময়ে অপারেশন করতে পরামর্শ দিয়েছেন। এতে তার খরচ পরবে প্রায় ৬ লাখ টাকা। এত টাকা পাবে কোথায় এই হতদরিদ্র পরিবারটি। টাকার অভাবে ভাঙ্গা টিনের চাল মেরামত করতে না পারায় বৃষ্টিতে ভিজে রাত কাটছে তাদের। ঘর মেরামত করতে যাদের হিমসীম অবস্থা, তারা মেয়ে সন্তানের চিকিৎসা করাবেন কিভাবে। এমন পরিস্থিতিতে সহ্নদয়বান ব্যাক্তিদের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারটি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ জামিরবাড়ি আদর্শপাড়া গ্রামের দিনমজুর পরিবার রাজু মিয়া ও আমেনা বেগমের ৩য় সন্তান আখিমনি (১৮)। প্রায় আড়াই বছর পূর্বে পাশর্^বর্তী কাসিমবাজার গ্রামে দর্জি সুজন মিয়ার সাথে বিয়ে হয় আখিমনির। বাল্যবিয়ের শিকার আখিমনি জন্মের পর থেকেই হার্টের ছিদ্র সমস্যায় ভুগছিল। এরপর সন্তান জন্ম নেয়ার পর তার হার্ট ও ভাল্বের সমস্যা আরও খারাপ দিকে মোড় নেয়। অসুস্থ্য মেয়েকে প্রথমে কুড়িগ্রামে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর কিছুটা সুস্থ্য হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হার্ট সেন্টারে ভর্তি করা হয়। 

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তার হার্টের অপারেশন দ্রত করার জন্য পরামর্শ দেন। এজন্য চিকিৎসায় প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। গত দেড় মাস পূর্বে এই পরামর্শ দেয়া হলেও টাকার অভাবে আখিমনির চিকিৎসা আটকে আছে। প্রতিবেশীরা জানান দিন যত যাচ্ছে শিশুটি মায়ের বুকের দুধ তত পাচ্ছে না। আমরা যতটুকু পেরেছি সহায়তা করেছি। এখন তার চিকিৎসায় অনেক অর্থের প্রয়োজন যা গ্রামবাসীর পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এখন বিত্তবানরাই পারেন এই শিশু সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে তার মায়ের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়াতে।


রাজু মিয়ার ছোট ভাই মো. সাজু মিয়া জানান, আমার ভাইয়ের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। ভাঙ্গা টিনের ঘরে বৃষ্টিতে ভিজে রাত কাটাচ্ছে তারা। যাদের ঘর করার টাকা নেই, তারা কিভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাবে। গ্রামবাসী কিছুটা সহযোগিতা করেছে। এখন অনেক টাকার দরকার যা গ্রামবাসীর পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে তারা খুবই কষ্টে আছে।


আখিমনির মা আমেনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে জানান, আমার মেয়েটা খুবই অসুস্থ্য। খাবার খেতে পারে না। ঠিকমতো নি:শ্বাস নিতে পারে না। প্রচন্ড বুকের ব্যাথায় যখন কুকড়ে যায়, তখন মেয়ের দিকে তাকাতে আমার আত্মা ফেঁটে যায়। আমাদের কোন কর্ম নাই যে মেয়ের চিকিৎসা করাবো। যা টাকা ছিল সব শেষ। এখন আপনারা সহযোগিতা না করলে মেয়েটাকে বাঁচাতে পারবে না।


আখিমনির বাবা রাজু মিয়া বলেন, মেয়েকে নিয়ে আমি খুব টেনশনে আছি। বাড়িভিটার দুই শতক জমি বিক্রি করেছি। সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা করতে টাকা শেষ হয়ে গেছে। কামলা খাটা মানুষ। এখন অপারেশন করার টাকা পাচ্ছি না। ছোট্ট বাচ্চাটার ভবিষ্যতের জন্য আমার মেয়েটার সুস্থ্য হওয়া দরকার। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবো। আপনারা যদি সবাই মিলে সাহায্য করেন তাহলে মেয়েটা ও তার বাচ্চাটাকে বাঁচাতে পারবো।


ক্লান্ত বিধ্বস্ত আখিমনি জানায়, আমার বাচ্চাটার জন্য আমি বাঁচতে চাই। আমি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ্য হতে চাই। আমার বাবার সামর্থ নাই আমার চিকিৎসা করার। স্বামীরও আর্থিক সামর্থ নাই। সামর্থবান মানুষ যদি একটু সাহায্য করে তাহলে আমি বাচ্চাটার জন্য বাঁচতে পারবো।

আকাশজমিন / আরআর 




এ সম্পর্কিত আরো খবর