ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:৫২ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির সময়কাল চলাকালে হারমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার এক মাসের বেশি সময় পর এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে রাতের মধ্যে পুরো ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন। তিনি আজ বুধবার ভোরে ঘোষণা করেছেন যে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কী বলেছে?

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হলে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা বন্ধ রাখবেন। হরমুজ প্রণালি হলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সব সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এক রাতের মধ্যেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিব ও পোপ এ হুমকির সমালোচনা করেছেন। ইরান দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিনা বাধায় নৌযান চলাচল করতে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। তবে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক বাহিনী সমন্বয় করবে।

ইরান একটি ১০ দফা পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে যুদ্ধে সম্পূর্ণ বিরতি; ইরানের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি; যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ও জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা; পুনর্গঠনের খরচ বাবদ সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি। এছাড়া ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তেহরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মাঠের লড়াইয়ে ইরানের যে সাফল্য এসেছে, তা রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি লেবাননেও কার্যকর হবে। সেখানে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই করছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েলের নেতারা বলেছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত তারা লেবানন ছাড়বে না।

ইসরায়েলের অবস্থান

ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলে সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে জেরুজালেমে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করে, তাহলে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে ইসরায়েল।’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন পড়বে না। দেশটিতে ইসরায়েলের স্থলবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে নেতানিয়াহুর ভূমিকা কতটা ছিল, তা স্পষ্ট নয়।

আগামী ধাপ

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান দুই দেশের প্রতিনিধিদলকে শুক্রবার ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সব বিরোধ মিটিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আরও আলোচনা হবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, সামনাসামনি বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রেসিডেন্ট বা হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কিছু চূড়ান্ত নয়।

যুদ্ধে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য স্পষ্ট। যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়েই মতভেদ রয়েছে। গত বছরও দুই দফা আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল হলেও চূড়ান্ত সমাধান সহজ হবে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের অবস্থান শক্ত, এবং পারস্পরিক আস্থা এখনও সীমিত।

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর