বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূ মাহিয়া আক্তার (১৮)-এর মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি স্বামী রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলা দায়েরের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বুধবার গভীর রাতে ঢাকার নন্দীপাড়া এলাকার ছোট বটতলার একটি ভাড়া বাসা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তাকে থানায় আনা হয়।
নিহত মাহিয়া আক্তার বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ হুমায়ুন কবিরের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকার মোঃ মাসুম মৃধার ছেলে রবিউল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় বসবাস করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে মাহিয়াকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তার স্বামী। স্থানীয়দের দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই তার ওপর নির্যাতন চালাতেন রবিউল ইসলাম।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সর্বশেষ প্রায় এক সপ্তাহ আগে স্বামী ও শাশুড়ির মারধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মাহিয়া। পরে পরিবারের লোকজন ঢাকায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
গত ৮ এপ্রিল সকালে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করে। ওসি মোঃ মজিবুর রহমান ও ওসি (তদন্ত) শতদল মজুমদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার নন্দীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে ওসি মোঃ মজিবুর রহমান জানান, পুলিশের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। মেয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা শোকাহত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রাও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আকাশজমিন / আরআর