মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার বিশেষ অভিযানে ৪,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাহমুদ হাসান রাসেল (২৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তিনজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে চান্দগ্রাম থেকে বড়লেখার দিকে আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ৮ এপ্রিল রাতে বড়লেখা উত্তর চৌমহুনা এলাকায় একটি চেকপোস্ট বসানো হয়।
চেকপোস্টে তল্লাশি চলাকালে একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাহমুদ হাসান রাসেলকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটকের পর তার কাছে থাকা একটি শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে ২০টি প্যাকেট কালো পলিব্যাগের মধ্যে মোড়ানো ৪,০০০ পিস গোলাপি রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
আটককৃত মাহমুদ হাসান রাসেল মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানাধীন বিওসি কেছরীগুল মধ্য ডিমাই গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান থান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল স্বীকার করেছে যে, সে এবং তার আরও দুই পলাতক সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরও জানান, তারা সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত।
পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাসেল ও তার দুই পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের এমন তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদক পাচার ও ব্যবসা বন্ধে তাদের অভিযান চলমান থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশজমিন / আরআর