ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:০৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত, অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, লেবানন এই চুক্তিতে নেই। এই ভিন্নমত যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের ক্ষেত্রে কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিলেও, প্রশাসন পাকিস্তানকে ব্যবহার করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করানোর চেষ্টা চালিয়েছে। তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়া এবং ইরানের অপ্রত্যাশিত সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশল পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।

টানা ৩৯ দিনের যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছিল। তাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল মুসলিম-প্রধান ও তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা পাকিস্তান তেহরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এবং তার দল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছেন।

এই গোপন আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছাড়াও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যস্থতায় চূড়ান্তভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা না থাকলে ট্রাম্পের প্রশাসন এত দ্রুত যুদ্ধবিরতি অর্জন করতে পারত না। একই সঙ্গে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ দিয়েছে, যা তেলের সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সীমিত হামলা হয়েছে। ফলে চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই দুই সপ্তাহের বিরতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বে আপাতত উত্তেজনা কমাবে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক শক্তি সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর