ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আলোচনার আগে কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করলেন ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:০৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে ঘিরে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন স্বীকার করেছে, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নাজুক ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। তবে তিনি আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে কোনো পূর্বানুমান দিতে চাননি।

ট্রাম্প বলেন, “দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। সেখানে জেডি (ভ্যান্স), স্টিভ এবং জ্যারেড আছে। আমাদের একটি দক্ষ দল রয়েছে এবং আগামীকাল তারা বৈঠকে বসছে। আমরা দেখব সব কেমন চলছে।” তিনি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলের দিকেই ইঙ্গিত করেন।

একই সময়ে ট্রাম্প আলোচনাকে কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে দেখান। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও অর্থনৈতিক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত আলোচনার গতিপথ নির্ধারণ করবে।

তিনি আরও বলেন, “প্রণালিটি (হরমুজ) খুলে যাবে। আমরা যদি কেবল এটি ছেড়ে দিই, তবে এটি এমনিতেই খুলবে।” যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, “আমরা এই প্রণালি ব্যবহার করি না... অন্যান্য দেশগুলো এ কাজে এগিয়ে আসবে।”

কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তা সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “এটি সহজ হবে না... তবে আমরা খুব দ্রুতই পথটি খুলে দিতে পারব।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, “কোনো ব্যাকআপ প্ল্যানের প্রয়োজন নেই।”

ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে আলোচনার অনিশ্চয়তাও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ফলাফলের নিশ্চয়তা না দিলেও দ্রুত অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে ইসলামাবাদে পৌঁছানো মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে আছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। হোয়াইট হাউস সূত্র অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলটি সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স টু’তে করে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং যাত্রাপথে একবার প্যারিসে জ্বালানি বিরতি দেয়।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি প্রতিনিধি দলকে কিছু স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে মার্কিন দলের রওনা হওয়ার আগেই ইসলামাবাদে পৌঁছে যায় ইরানি প্রতিনিধি দল। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি, সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর আহমদিয়ানসহ মোট ৭১ জন কর্মকর্তা।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তারা যেন কোনো ধরনের ‘চতুরতা’ বা কৌশলের আশ্রয় না নেয়। তার মতে, দুই পক্ষ একই টেবিলে বসলেও গভীর অবিশ্বাস এখনো রয়ে গেছে।

এদিকে পাকিস্তান নিজেকে সরাসরি মধ্যস্থতাকারী না বলে বরং একটি সহায়ক কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ বলেন, “অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছেছি।”

তিনি তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং উভয় পক্ষের আচরণই ভবিষ্যৎ ফল নির্ধারণ করবে।

সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে আস্থা, কৌশল এবং রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তিই মূল নির্ধারক হয়ে উঠবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর