ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে: বিশ্বব্যাংক প্রধান


  • আপলোড সময় : শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৪৪ পিএম

ঢাকা টুডে ডেস্ক

বিশ্ব অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ‘ধারাবাহিক বা ক্যাসকেডিং প্রভাব’ ফেলবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অজয় বাঙ্গা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর যদি যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হয় এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে ক্ষতির মাত্রা আরও অনেক বেশি হবে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ক্ষতি বেড়ে প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মূল্যস্ফীতির ওপরও বড় চাপ সৃষ্টি হবে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০০ থেকে ৩০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর পরিস্থিতি খারাপ হলে তা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা আগে ৪ শতাংশ ধরা হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চলতে থাকলে এই হার আরও কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নামতে পারে।

এছাড়া এসব দেশে ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসে ছিল ৩ শতাংশ। চরম পরিস্থিতিতে এটি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। পারমাণবিক কর্মসূচি এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেন, এই আলোচনায় কোনো বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই এবং মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আলোচনার ফলাফল এক দফায় হবে নাকি দীর্ঘমেয়াদি হবে তা নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি তাঁকে শুভকামনা জানিয়েছেন।

একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘একটি ভালো চুক্তি মানে ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’ তিনি আরও দাবি করেন, তার মতে ইরানে ইতোমধ্যে এক ধরনের ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটেছে।

এ সময় ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে বলেন, এটি খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রণালির প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমনটা হতে দেব না।’



এ সম্পর্কিত আরো খবর