অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রসারের অংশ হিসেবে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভার্চুয়াল শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে এই পাইলট প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন এ ব্যবস্থায় সপ্তাহে তিন দিন সশরীরে এবং তিন দিন অনলাইনে ক্লাস পরিচালিত হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার, সোমবার ও বুধবার হবে অফলাইন বা সরাসরি ক্লাসের দিন। আর রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা অনলাইন মাধ্যমে ক্লাসে অংশ নেবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার দিকে অগ্রসর হওয়া। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব শিক্ষা কার্যক্রম গড়ে তোলাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত ৯ এপ্রিল এক বৈঠকে জানান, ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার দিকে শিক্ষার্থীদের আরও আগ্রহী ও প্রস্তুত করতেই এই পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজধানীর পাইলট প্রকল্প সফল হলে ধাপে ধাপে এটি সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
আজকের অনলাইন ক্লাস কার্যক্রমে দেখা গেছে, শিক্ষকরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে পাঠদান পরিচালনা করছেন। শিক্ষার্থীরা বাসায় অবস্থান করে নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের মধ্যেই নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে কলেজ শাখায় এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। খুব শিগগিরই স্কুল শাখাতেও অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই পদ্ধতি সফল হলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আরও সহজ হবে।
এর আগে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার পর শিক্ষা খাতেও একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। গত ৮ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অংশীজনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ থেকে এই পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে হাইব্রিড শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে, যেখানে অফলাইন ও অনলাইন শিক্ষা একসঙ্গে সমন্বিতভাবে চলবে।