জামালপুরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে মেলান্দহ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় হওয়ায় আসামিরা পূর্বঘোষিতভাবে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে জামিন শুনানি শেষে মাদারগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক রোমানা আক্তার তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা কৃষক লীগের কৃষিপণ্য সম্পাদক হোসেন আলী, মেলান্দহ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম শাওন, সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান আল-আমিন, মেলান্দহ উপজেলার ৫ নম্বর নয়ানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মজি ও বাবর আলী, ৬ নম্বর আদ্রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফাজিল হক এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দিক হোসেন জুয়েল।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলাটির শুনানি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও মামলার ধরন বিবেচনা করে জামিন না মঞ্জুরের সিদ্ধান্ত দেন।
এ বিষয়ে জামালপুর সিজেএম কোর্টের পুলিশ পরিদর্শক আবুল হোসেন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা থাকায় তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।