ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

আগামী বাজেটে নতুন কর বাড়ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:০১ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সরকার কর বাড়ানোর পথে না গিয়ে বরং করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২০২৭, বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আহরণে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে করের আওতা বাড়ানো জরুরি। তবে এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং এর ইতিবাচক ফলাফল আগামী বাজেট ও পরবর্তী বছরগুলোতে দৃশ্যমান হবে।

তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের জন্য নতুন কোনো করের খড়গ নামছে—এমন আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই। বরং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির প্রভাবও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও সার খাতে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আগে যেখানে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ১০ ডলারে কেনা যেত, এখন তা কিনতে হচ্ছে ২০ ডলারে। একইভাবে ক্রুড অয়েলের দাম ৫০-৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া সারের দাম ৪৫৬ ডলার থেকে বেড়ে ৮০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে পর্যাপ্ত স্টোরেজ ব্যবস্থা না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি পড়ছে। যদি দেশে অন্তত দুই মাসের এলএনজি মজুদের সক্ষমতা থাকত, তাহলে কম দামে জ্বালানি সংগ্রহ করে বেশি দামে কেনার প্রয়োজন হতো না।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ আমদানিনির্ভর পণ্যের জন্য স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ গড়ে তুলেছে, কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সে ধরনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির সময় দেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সরকার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। স্টোরেজ সুবিধা বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমিয়ে আনার মাধ্যমে একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের এই আশ্বাসকে স্বাগত জানান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে আরও সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর