ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরান ইস্যুতে মেলোনিকে তোপের মুখে ফেললেন ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:৪৭ এএম

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে মেলোনির ‘সাহসের অভাব’ রয়েছে এবং এই সংকট মোকাবিলায় তিনি দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ইতালির একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মেলোনির আচরণে তিনি ‘স্তম্ভিত’। তাঁর ভাষায়, ‘আমি ভেবেছিলাম তাঁর সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’ ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রই যেন সব দায়িত্ব নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবে।

জর্জিয়া মেলোনি এর সঙ্গে এই বাকযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়, যখন তিনি পোপ লিও সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। মেলোনির এই প্রতিক্রিয়ার জবাব দিতে গিয়ে ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘তিনিই বরং অগ্রহণযোগ্য। কারণ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেল কি না তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না।’ তিনি আরও দাবি করেন, সুযোগ পেলে ইরান খুব দ্রুত ইতালির ওপর আঘাত হানতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকেও স্পষ্ট করে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের ভেতরেই মতপার্থক্য বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ইউরোপের কিছু দেশ তুলনামূলকভাবে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই ট্রাম্প ও মেলোনির মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রকাশ্য সমালোচনা মিত্র দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ককে দুর্বল করতে পারে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গঠনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

এদিকে, ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে মেলোনির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নতুন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মতবিরোধ বাড়ছে এবং এই ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর