ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নবায়ন স্থগিত ইতালির


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:৪৮ এএম

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মঙ্গলবার ভেরোনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মেলোনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ‘সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা’ চালানো প্রয়োজন। তার মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এই সমঝোতা স্মারকটি প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ২০০৩ সালে। সে সময় ইতালির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সিলভিও বেরলুসকোনি। চুক্তিটির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাত এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতার পথ সুগম হয়।

২০০৫ সালে ইতালির সংসদ এই চুক্তি অনুমোদন করে। এরপর থেকে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে আসছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন এনে নবায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক মোড় নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালির এই সিদ্ধান্ত কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা ইউরোপীয় দেশগুলোকে নতুন করে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করছে।

একই সঙ্গে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইতালি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি বার্তাও দিতে চেয়েছে—বর্তমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব তুলে ধরে মেলোনি মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

এদিকে, এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, বিষয়টি ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশও এ ধরনের পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিও নজরে রাখা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসিটাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইতালির এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ওপর নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর