নীলফামারীতে দ্রুতগতির ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় আপন দুই ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জেলার সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের পূর্ব সূটিপাড়া জামতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার পশ্চিম কুচিয়ার মোড় দোলাপাড়া এলাকার তরিকুল ইসলাম বাবুর দুই ছেলে সিহাব হোসেন (১৬) ও মো. হোয়াদ হোসেন (৬)। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের ওই সময়ে তিনজন একসঙ্গে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ড্রাম ট্রাক তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই দুই ভাই রাস্তার ওপর পড়ে যান এবং ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। আহত অপর ব্যক্তি গুরুতর অবস্থায় পড়ে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, ট্রাকটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত দুই শিশুর পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা দ্রুতগতির যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সড়কে ট্রাক ও ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি বারবার প্রাণহানির কারণ হচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও অসাবধানতাই এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
এদিকে, নিহত দুই ভাইয়ের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজনরা জানান, একসঙ্গে দুই সন্তান হারিয়ে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।