ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ২৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত সময়ে এসব শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ৪৮২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৩৮১ জন শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জন শিশুর।
গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে আরও ১১ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে এক-দুজন করে রোগী ভর্তি হতে শুরু করে। তবে মার্চের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করে। সেখানে বিশেষভাবে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা নিরবচ্ছিন্নভাবে রোগীদের পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। তিনি আরও জানান, আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চাপ বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, পৃথকীকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সময়মতো টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিকা গ্রহণে অনীহা এবং সচেতনতার অভাবের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে হাসপাতাল প্রশাসন রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।