ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৩৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই পদক্ষেপে অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে নতুন নৌবহর ও মেরিন ইউনিটও ধাপে ধাপে সেখানে পৌঁছাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজ বহরের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার সেনা ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী দুইটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড অবস্থান করছে। নতুন রণতরী যুক্ত হলে সংখ্যা দাঁড়াবে তিনটিতে, যা সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।

এছাড়া চলতি মাসের শেষ দিকে বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ সেনা সদস্য মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক কার্যক্রমের পর এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল সেনা উপস্থিতি একদিকে যেমন কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তাদের নৌ-অবরোধ এখন পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে এবং এর ফলে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে, অবরোধ সত্ত্বেও কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল অব্যাহত রেখেছে।

এই ভিন্ন তথ্যের কারণে মার্কিন অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা চূড়ান্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে নতুন বৈঠক হতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে। ফলে পরিস্থিতি আরও কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর