ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রুশ-ইরানি তেল কেনায় ভারতের ওপর বড় ধাক্কা যুক্তরাষ্ট্রের


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৩৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রুশ ও ইরানি তেল কেনা নিয়ে ভারতকে বড় ধাক্কা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক ছাড় আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। এতে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে রাশিয়ার তেল আমদানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই সুযোগে ভারত অতিরিক্ত পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করে সরবরাহ ঘাটতি কিছুটা সামাল দেয়। ওই সময় ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো প্রায় তিন কোটি ব্যারেল রুশ তেলের অর্ডার দিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রুশ ও ইরানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে দেওয়া সাধারণ লাইসেন্সের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সময়ের আগে জাহাজে তোলা তেলই কেবল সীমিতভাবে বাজারে প্রবেশের অনুমতি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি কর্মকর্তারা বলেন, ১১ মার্চের আগে জাহাজে লোড করা তেলের ক্ষেত্রেই এই ছাড় কার্যকর ছিল, যা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। একইভাবে ইরানি তেলের ক্ষেত্রে দেওয়া ছাড়ও ধাপে ধাপে শেষ হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আবারও চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ইতিমধ্যেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কড়াকড়ি হলে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অস্থায়ী ছাড়ের সময় ভারত সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে। দেশটি রুশ তেল আমদানি অব্যাহত রেখে জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছিল। বিশেষ করে ভারতীয় শোধনাগার কোম্পানিগুলো এই সময়ে বিপুল পরিমাণ রুশ তেল কেনে, যা প্রায় তিন কোটি ব্যারেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজসহ ভারতের বড় তেল শোধনাগারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে রাশিয়ার রোজনেফট ও লুকোইল কোম্পানি থেকে আমদানি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিল। তবে পরে আবার আমদানি বাড়ানো হয়।

একই সময়ে ইরান থেকেও সীমিত পরিমাণে তেল আমদানি শুরু হয়। প্রায় সাত বছরের বিরতির পর দুটি সুপারট্যাংকার ইরানি অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারতের বন্দরে পৌঁছায় বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। ঐতিহাসিকভাবে ভারত ইরানি তেলের বড় ক্রেতা ছিল, যদিও ২০১৮ সালের পর নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ায় আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। কারণ বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারেও প্রভাব ফেলবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর