অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে দুটি পৃথক বৈঠক করেছে। প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় সকালে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এবং তার দলের সঙ্গে। দ্বিতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বিকেলে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্ক এবং তার দলের সঙ্গে।
দুই বৈঠকই অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং সরকারের নীতিগত অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান নির্বাচিত সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়।
দুই পক্ষই অধিকাংশ বিষয়ে একমত হলেও কিছু ক্ষেত্রে আরও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন বলে মত দেন। বিশেষ করে জনগণের সরাসরি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সরকারের দৃঢ় অবস্থান বৈঠকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেওয়া দুই পক্ষই একমত হয়েছেন যে, কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও তা চলমান আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
আইএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংস্থাটি বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশীদার হয়েই পাশে থাকতে চায়।
এদিকে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সংস্কার ব্যর্থতার কারণে আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে”—এ ধরনের খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আইএমএফ এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এছাড়া আরও জানানো হয়, আইএমএফের সঙ্গে গতকাল কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি—আজকের দুইটি বৈঠকই প্রথম ও একমাত্র বৈঠক। আজকের আলোচনায় কিস্তি স্থগিত বা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইএমএফের সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।