ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কুড়িগ্রামে বড়াইবাড়ী দিবস পালিত, শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:১০ পিএম

কুড়িগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় বড়াইবাড়ী যুদ্ধে শহীদ তিন বিডিআর সদস্যের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, রাজিবুল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক এবং সদস্য সচিব মোস্তাফিজার রহমান রঞ্জুসহ সাবেক সেনা কর্মকর্তারা।

বক্তারা বলেন, বড়াইবাড়ী যুদ্ধ বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষার ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এ যুদ্ধে বিডিআর সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাহসিকতা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তারা শহীদদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণের পাশাপাশি দিবসটিকে সরকারিভাবে পালনের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্ত এলাকায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর), স্থানীয় গ্রামবাসী এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। সেদিন ভোরে বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে বড়াইবাড়ী গ্রামে অতর্কিত হামলা চালালে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় বিডিআর সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের সাহসী প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। ওই সংঘর্ষে ৩৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং ২৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের শহীদ হন। অপরদিকে বিএসএফের ১৬ সদস্য নিহত হয় বলে জানা যায়।

দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আবেগ ও গর্বের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অনেকেই মনে করেন, এ যুদ্ধের যথাযথ মূল্যায়ন এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, বড়াইবাড়ী দিবস জাতীয় পর্যায়ে উদযাপন করা হলে দেশের সীমান্ত রক্ষার ইতিহাস আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর