সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট নিরসনে প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষকদের সুবিধার্থে যাদুকাটা নদীর বালুমহাল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ১০ দিন বালু উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত থাকবে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ কামরুজ্জামান কামরুল এমপির নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী ও সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত শনিবার বিকেলে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা যাদুকাটা নদীতে নৌকাযোগে মাইকিং করে সর্বসাধারণকে অবহিত করা হয়। এ সময় উপজেলা সদর ইউনিয়নের তহসিলদার রুহুল আমিন উপস্থিত থেকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জনগণকে জানান।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত যাদুকাটা নদীতে সব ধরনের বালু উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলন বা পরিবহন কার্যক্রম চালালে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর বোরো ধান কাটার মৌসুমে হাওরাঞ্চলে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এ সময় অধিকাংশ শ্রমিক বালু উত্তোলন কাজে যুক্ত থাকায় কৃষকরা ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পান না। ফলে কৃষি উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে এবং অনেক ক্ষেত্রে পাকা ধান মাঠেই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এছাড়া হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারও সম্ভব হয় না। ফলে কৃষকদের হাতে নির্ভর করতে হয় স্থানীয় শ্রমিকদের ওপর। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রশাসন যাদুকাটা বালুমহাল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু বলেন, হাওরে শ্রমিক সংকট নিরসনে সাময়িকভাবে সব বালুমহালের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে শ্রমিকরা কৃষিকাজে অংশ নিতে পারবেন এবং কৃষকেরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল সময়মতো ঘরে তুলতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন সবসময় সচেষ্ট রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় কৃষকরা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বোরো ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বালুমহাল বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা এখন কৃষিকাজে যুক্ত হতে পারবেন, যা ধান দ্রুত ঘরে তুলতে সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।