আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষাকে ঘিরে সারাদেশে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এবার মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এবারের পরীক্ষা দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে পরীক্ষা চলাকালে কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন। তারা জানান, দেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন পরীক্ষার কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটায়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় যানজটমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালে কোনো ধরনের গুজব বা অযথা আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্বস্তিতে রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এদিকে পরীক্ষা স্বচ্ছ রাখতে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। দেশের ৩ হাজার ২০৯টি পরীক্ষাকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, অনেক কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা স্থাপিত ছিল। নতুন যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা সংযোজন করা হয়েছে, সেসব কেন্দ্রের সচিবদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ পরীক্ষাকে আরও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সহায়ক হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সমন্বিত প্রস্তুতি ও কঠোর নজরদারির ফলে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং কোনো ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে।