ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আশায় কমলো তেলের দাম


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:০৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারেও কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যা সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর বাজারে নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও কমার আভাস মিলছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে আগ্রহী হয়ে ওঠায় তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে।

এর আগে সোমবার আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। একদিনেই প্রায় ৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে, যা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। তবে পরদিনই পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন সম্ভাব্য আলোচনার খবর সামনে আসে এবং বিনিয়োগকারীরা আবারও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন।

সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৯৪ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) মে মাসের সরবরাহের দর ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই দরপতন বাজারে স্বস্তির বার্তা দিলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনো অনেকটাই নির্ভর করছে আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছিলেন। এমনকি অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে।

তবে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সেই আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আলোচনার বাস্তব অগ্রগতি হলে বাজারে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় যেকোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক অগ্রগতি সরাসরি দামের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

আকাশজমিন / আরআর   



এ সম্পর্কিত আরো খবর