ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০০ স্কুলের অর্ধেকের বেশি মেরামত ইরানের


  • আপলোড সময় : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৮:৫৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের স্কুলগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমী জানিয়েছেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৩০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭৫টি স্কুলের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলিরেজা কাজেমী বলেন, হামলার ফলে প্রায় ২০টি স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেহরান, কেরমানশাহ, ইসফাহান এবং হরমোজগান প্রদেশ। এসব এলাকায় শিক্ষা অবকাঠামোর ওপর আঘাত ছিল তুলনামূলক বেশি, ফলে দ্রুত পুনর্গঠন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর মেরামত কাজ আগামী অক্টোবরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হবে। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা খাতকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখেনি। আলিরেজা কাজেমীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি দূরশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমেও পাঠদান চালু রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা শিক্ষার্থীদের পাঠক্রম চালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। হামলার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে তারা মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা হলো মিনাবের শাহারেহ তাইয়েবেহ বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। এই হামলায় ১৭০ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন স্কুলছাত্রী ও শিক্ষিকা। এই মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে বিভিন্ন স্কুলে স্মরণসভা আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ও সহমর্মিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যুদ্ধের মধ্যেও শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে বিভিন্ন বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের পাঠক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো পুনর্গঠন কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা খাতে দ্রুত পুনর্গঠন একটি ইতিবাচক দিক হলেও দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক আঘাতও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও ইরান শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের জন্য আরও সময় ও সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: আলজাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর