নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা আনে টাইগাররা। ফলে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি হয়ে ওঠে সিরিজ নির্ধারণী। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট শিকার করে ম্যাচ জয়ের নায়ক হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাদের পারফরম্যান্সে ৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতে ধাক্কা খেলেও চতুর্থ উইকেটে গড়ে ওঠা ১৬০ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। নাজমুল হোসেন শান্ত খেলেন দুর্দান্ত ১০৫ রানের ইনিংস। ১১৯ বলের এই ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। লিটন দাস করেন ৭৬ রান।
ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার সাইফ হাসান শূন্য রানে আউট হয়ে যান। এরপর তানজিদ হাসান তামিম করেন মাত্র ১ রান। ৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর সৌম্য সরকার ১৮ রান করে ফিরে যান। তবে শান্ত ও লিটনের জুটিই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
মধ্য ওভারে উইকেট হারালেও শেষ দিকে কিছুটা রান যোগ করে বাংলাদেশ ২৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে তোলে। মেহেদী হাসান মিরাজ ২২ রান করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ব্রেকথ্রু এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। হেনরি নিকোলস ৪ রান করে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর উইল ইয়াং ১৯ রানে বিদায় নেন।
অধিনায়ক টম ল্যাথামও ব্যর্থ হন, তিনি ১৩ বলে মাত্র ৫ রান করে ফেরেন। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে কিউইরা।
তবে নিক কেলি ও ডিন ফক্সক্রফট কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কেলি ফিফটি করেন, তবে ৫৯ রানে মুস্তাফিজের শিকার হয়ে ফেরেন। ফক্সক্রফট ৭৫ রান করলেও তা দলের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন।
নিউজিল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ৪৪ ওভার ৫ বলে ২১০ রানে অলআউট হয়। ফলে ৫৫ রানের জয় নিয়ে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।
এই জয়ে সিরিজে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। ব্যাটিংয়ে শান্তর সেঞ্চুরি এবং বোলিংয়ে মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট ছিল জয়ের প্রধান নিয়ামক।