বরগুনার আমতলীতে দশ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ঠিকাদারকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব মোঃ ইমরান খাঁন ও তার অনুসারী কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। আহত ঠিকাদার মোঃ শহীদুল ইসলাম খাঁন বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আমতলী একে স্কুল চৌরাস্তায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার মোঃ শহীদুল ইসলাম খাঁনের কাছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মোঃ ইমরান খাঁন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তবে ঠিকাদার ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহত ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি চৌরাস্তায় একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব মোঃ ইমরান খাঁনের নেতৃত্বে কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য সেখানে এসে আবারও তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। তিনি পুনরায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করা হয়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ রেদওয়ান ইসলাম শুভ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে ভর্তি রয়েছেন।
ঠিকাদার মোঃ শহীদুল ইসলাম খাঁন বলেন, জানুয়ারি মাস থেকেই তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “শুক্রবার রাতে আবারও চাঁদা চাইলে আমি অস্বীকার করি। তখন আমাকে মারধর করে আহত করা হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মোঃ ইমরান খাঁন বলেন, ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের লোক হয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলকে নিয়ে কটূক্তি করছিলেন। এ সময় সাকিব নামের এক ছাত্রদল কর্মী প্রতিবাদ করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, চাঁদা দাবির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছেন।
এ ঘটনায় বরগুনা জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মোঃ সানাউল্লাহ সানি বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সত্যতা মিললে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রেদওয়ান ইসলাম শুভ জানান, আহত ব্যক্তির অবস্থা বিবেচনায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) মোঃ তারিকুল ইসলাম মাছুম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।