ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

মাধবপুরে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুতি: অবকাঠামোগত দুর্বলতাই প্রধান কারণ


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৩৯ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট রেলপথে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় অবকাঠামোগত দুর্বলতাকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরাতন স্লিপার, ত্রুটিপূর্ণ রেললাইন এবং নিম্নমানের ওয়াগনের সমন্বিত সমস্যার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামানের কাছে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দাহ্য পদার্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে উন্নতমানের ওয়াগন ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি হলেও সংশ্লিষ্ট ট্রেনে সেই মান বজায় রাখা হয়নি।

তদন্তে উঠে এসেছে, রেললাইনের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং স্লিপারের মানহীনতা ট্রেনটির ভারসাম্য নষ্ট করতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ব্যবহৃত ওয়াগনগুলোর মানও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের ছিল না, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভালো মানের স্লিপার, কোচ এবং আধুনিক রেললাইন থাকলে নির্ধারিত ৪০ কিলোমিটার গতিতে চলাচলকারী ট্রেন সাধারণত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ে না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট লাইনের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকায় এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনটি মনতলা স্টেশন অতিক্রম করার পর লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় ট্রেনটির ৫টি ওয়াগন এবং একটি গার্ডব্রেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জানা যায়, পদ্মা ওয়েল কোম্পানি লিমিটেডের চট্টগ্রাম ডিপো থেকে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার লিটার ডিজেল নিয়ে ট্রেনটি সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। দুর্ঘটনার ফলে প্রায় ৪২ হাজার লিটার তেল নষ্ট হয়, যা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও সৃষ্টি করে।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর রেল চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। এতে ওই রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনগুলো সাময়িকভাবে বিঘ্নের মুখে পড়ে।

ঘটনার পরদিন ২ এপ্রিল পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা কিছুটা বিলম্বে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে দাহ্য পদার্থ পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নতমানের ওয়াগন ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর