রাতের আঁধারে হারিকেন ও মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর একটি ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি সড়কে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ২০ থেকে ২৫ জন যুবক রাতের অন্ধকারে হারিকেন ও মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করে মিছিল করছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ মাস্ক পরা অবস্থায়, কেউ হেলমেট পরে এবং কেউবা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে অংশ নেন। মিছিল চলাকালে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে শোনা যায়। এর মধ্যে ছিল—‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ নাই, তারেক জিয়ার দরকার নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ইত্যাদি স্লোগান।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হঠাৎ কয়েকজন তরুণ কাইলাটি সড়কে জড়ো হয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এই মিছিল বের করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুরো ঘটনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটে এবং মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাতের অন্ধকারে হারিকেন ও মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে কয়েকজনকে সড়কে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “মিছিলটি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি, তারা কিছুক্ষণ পরই চলে যায়।”
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন সরকার বলেন, এ ধরনের কোনো মিছিলের বিষয়ে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি অন্য কোনো স্থানের পুরোনো ঘটনাও হতে পারে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা নিশ্চিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে দাবি করছেন, আবার কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিডিওটির সত্যতা, অবস্থান এবং অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় শনাক্তে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণসহ তদন্ত কার্যক্রম চলছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।