আজহারুল হক, ময়মনসিংহ / : 65
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (৪ মে) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মুক্তাগাছা উপজেলার কুমারগাতা এলাকার মনতলা সমিতি ঘরের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে পড়ে।
ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা তিন নারী যাত্রী নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতদের মধ্যে ট্রাকের চালক, তার সহকারী (হেলপার) এবং অটোরিকশার চালক ছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের কারও পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোশাররফ হোসেন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তারা তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ, কারণ সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কটিতে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে, যার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও অসতর্কতা এই ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোই এ দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।