হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র সঙ্গে এক আওয়ামী লীগ নেতার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ব্যক্তির নাম তাসাদ্দুক আহমেদ। তিনি উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি একটি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত।
জানা গেছে, সম্প্রতি ইউএনও কার্যালয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল কাজে গিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম-এর সঙ্গে কয়েকটি সেলফি ও একান্ত মুহূর্তের ছবি তোলেন। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের জন্ম দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মী ইউএনও কার্যালয়ে যেতে ভীত থাকেন—এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে, সেখানে একজন দলীয় নেতা কীভাবে নির্বিঘ্নে ইউএনও’র সঙ্গে সময় কাটালেন, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এছাড়া কিছু আওয়ামী লীগপন্থী চেয়ারম্যানকে ইউএনও কার্যালয় থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগেও ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা এবং একটি বিতর্কিত মামলার আসামি হিসেবে আলোচিত মাসুদ খানকে একান্তে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং ইউএনও কার্যালয়ে তাদের নিয়মিত যাতায়াত নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শ্রীধাম দাশগুপ্ত বলেন, “মাস্টার সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি সবসময় মানুষের পাশে থেকেছেন। প্রশাসনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আওয়ামী লীগ করলেই কাউকে দোষারোপ করা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।”
অন্যদিকে যুবদল নেতা ও আলোচিত জুলাই মামলার বাদী আমিনুর রহমান আমিন বলেন, “আমাদের এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি মিলেমিশে গেছে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। ইউএনও সাহেব কারও সঙ্গে কথা বললে সমস্যা কোথায়? তবে আমাকে দিয়ে মামলা করিয়ে এখন অনেকেই খোঁজ নিচ্ছেন না।”
তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট তাসাদ্দুক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “আমি তাকে একজন ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে চিনতাম। সে হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করেছি এবং ছবি তুলেছি। একজন ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতেই পারেন—এটা অপরাধ নয়।”
সব মিলিয়ে, একটি সাধারণ সাক্ষাৎ ও ছবি প্রকাশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলেই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।