ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

চুনারুঘাটে সড়কে ধান-খড় শুকানোয় বাড়ছে দুর্ঘটনা


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৬ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৩৩ পিএম

চুনারুঘাটে সড়কের উপর ধান-খড় শুকানোর মহোৎসব, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে চালক ও পথচারী

মোঃ মাসুদ আলম, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সতং রোডে সড়কের উপর ধান মাড়াই, খড় শুকানো এবং ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখার কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। রাস্তার অর্ধেকের বেশি অংশ দখল করে কৃষকদের এই কর্মকাণ্ডে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সতং রোডের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মাঝখানেই বসানো হয়েছে মাড়াই কল। কোথাও ধান শুকানোর জন্য রাস্তা জুড়ে বিছিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ধানের বস্তা ও খড়ের স্তূপ ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে সরু এই সড়কে দুটি যানবাহনের একে অপরকে অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের।

স্থানীয় পথচারী ও চালকদের অভিযোগ, রোদ থাকলে ধুলোবালি ও খড়ের উড়াউড়িতে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। আর সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তায় পড়ে থাকা খড় ও ধানের কুঁড়া পচে পিচ্ছিল স্তর তৈরি হয়। এতে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা প্রায়ই পিছলে খাদে পড়ে যাচ্ছে।

একজন ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক বলেন, “রাস্তায় খড় বিছিয়ে রাখায় ঠিকমতো গাড়ি চালানো যায় না। তার ওপর ধান পচে রাস্তা এতটাই পিচ্ছিল হয়ে যায় যে, সামান্য ব্রেক করলেই বাইক ছিটকে পড়ে। অনেকেই রাস্তার ওপরই উঠানের মতো ব্যবহার করছেন।”

শুধু যানবাহন চালকরাই নন, সাধারণ পথচারীরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য চলাচল হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। পিচ্ছিল রাস্তার কারণে হেঁটে চলাচলের সময় যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক কৃষকের বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও তারা অলসতা কিংবা খড় পচানোর উদ্দেশ্যে সড়কের উপর ধান ও খড় শুকাতে দিচ্ছেন। এতে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়লেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি সড়ক দখল করে এভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ না থাকায় এ ধরনের অনিয়ম দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সতং রোডের এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে সড়ক দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর