পবিত্র হজ পালনের আগে নিয়ত শুদ্ধ করা এবং হালাল উপার্জনের অর্থ দিয়ে হজে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন শায়খ আবদুল্লাহ আল জুহানি। তিনি বলেছেন, আল্লাহর দরবারে হজ কবুল হওয়ার জন্য নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে হজের ব্যয়ভার যে অর্থে বহন করা হবে, সেটিও অবশ্যই হালাল হতে হবে।
শুক্রবার (৮ মে) মসজিদুল হারাম-এ জুমার খুতবায় এসব গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন তিনি। সৌদি সংবাদমাধ্যম এসপিএ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
খুতবায় শায়খ আবদুল্লাহ আল জুহানি বলেন, হজ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম বড় সুযোগ। তাই হজযাত্রীদের উচিত হবে, সফরের শুরু থেকেই নিজেদের নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং সব কাজে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
তিনি আরও বলেন, হজ ও ওমরাহ পালনের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদত পালন করলে হজের সৌন্দর্য ও ফজিলত আরও বৃদ্ধি পায়।
খুতবায় পবিত্র দুই হারাম শরীফ— মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববী-এ অবস্থানের সময় আদব, শিষ্টাচার ও ধৈর্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। হজযাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পবিত্র স্থানগুলোতে উচ্চস্বরে কথা বলা, ধাক্কাধাক্কি বা অন্যের কষ্টের কারণ হয়— এমন আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবায় সৌদি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন কাবার এই ইমাম। তিনি বলেন, অভিজ্ঞ আলেমদের দিকনির্দেশনা এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে হজযাত্রীদের জন্য নানা কাজ এখন অনেক সহজ হয়েছে।
খুতবার শেষ অংশে তিনি হজযাত্রীদের বেশি বেশি তওবা, ইস্তেগফার ও দোয়া করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হজ এমন একটি ইবাদত, যা বান্দার অতীত গুনাহ মাফের সুযোগ এনে দেয়। তাই এই আধ্যাত্মিক সফরকে আল্লাহর কাছে ফিরে আসার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
শায়খ আবদুল্লাহ আল জুহানি আরও বলেন, শুদ্ধভাবে এবং একনিষ্ঠ নিয়তে আদায় করা হজের প্রতিদান একমাত্র জান্নাত। তাই হজের মতো মহামূল্যবান ইবাদত যেন কেউ অবহেলা বা গাফিলতির মাধ্যমে নষ্ট না করেন।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, হজের বাহ্যিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আত্মিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ত, ধৈর্য, তাকওয়া ও ইখলাসের মাধ্যমেই একজন মুসলমান প্রকৃত অর্থে মকবুল হজের আশা করতে পারেন।