ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কোটান্দরে খামারের বর্জ্যে জনদুর্ভোগ চরমে, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬ সময় : ৫:৩৮ পিএম

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলীয় কোটান্দর এলাকায় সড়কের পাশে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। ফদ্রখলা-কোটান্দর-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের কোটান্দর অংশে খামারের স্তূপীকৃত গোবরের দুর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এলজিইডির পাকা সড়ক ঘেঁষে খামারের বিশাল গোবরের স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদের ছেলে রবিন মিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো শোধন বা নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া খোলা জায়গায় খামারের বর্জ্য ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে রোদে পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং বৃষ্টির সময় ওই বর্জ্য মিশ্রিত পানি রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সড়কটি ব্যবহারকারী সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দুর্গন্ধে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে এবং বর্জ্যের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে খোলা স্থানে খামারের বর্জ্য ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গোবর থেকে নির্গত মিথেনসহ ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে এবং বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে আশপাশের কৃষিজমির উর্বরতাও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কামরুল উদ্দিন বলেন, “রাস্তা কোনো ব্যক্তিগত ডাস্টবিন নয়। যারা সাধারণ মানুষের চলাচলের পথকে আস্তাকুঁড়ে পরিণত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। না হলে এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।”

আরেক স্থানীয় হাবিবুর রহমান বলেন, সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় নাক-মুখ চেপেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। বর্জ্যের স্তূপ থেকে মশা-মাছি ও রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে, যা আশপাশের বসতবাড়িতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ন্যূনতম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াই কীভাবে দীর্ঘদিন এ ধরনের খামার পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের বারবার আপত্তি সত্ত্বেও খামার মালিক রবিন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কের পাশের বর্জ্যের স্তূপ অপসারণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেমন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বা কম্পোস্ট পিট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, “এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আকাশজমিন / আরআর      


এ সম্পর্কিত আরো খবর