ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সময় পেরিয়েও আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে, তবে ...


  • আপলোড সময় : রবিবার ১০ মে, ২০২৬ সময় : ৪:১৮ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ব্যক্তিগত করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ৩১ মার্চ শেষ হয়ে গেছে। সময় পেরিয়ে গেলেও যাঁরা এখনো রিটার্ন জমা দিতে পারেননি, তাঁদের জন্য আইনগতভাবে সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ ও বিভিন্ন কর–সুবিধা হারানোর বিষয় জড়িয়ে আছে।

এখনও করদাতারা চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে আগের দুই বছর পর্যন্ত বকেয়া রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। আয়কর প্রশাসন বলছে, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও রিটার্ন গ্রহণ করা হবে, তবে এজন্য বাড়তি জরিমানা ও সুদ পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর–সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে করদাতাদের।

বর্তমানে দেশে প্রায় সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী বা টিআইএনধারী করদাতা রয়েছেন। এর মধ্যে গত করবর্ষে প্রায় ৪২ লাখের বেশি করদাতা তাদের আয়–ব্যয়ের হিসাব দিয়ে নিয়মিতভাবে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। বাকি বড় একটি অংশ এখনো রিটার্ন দাখিল করেননি।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রায় সব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় যারা এখন রিটার্ন জমা দেবেন, তাদের করের ওপর অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, প্রদেয় করের ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ আরোপ করা হবে, যা সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত চলতে পারে এবং এতে মোট সুদের হার ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এ ছাড়া দেরিতে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা কোনো ধরনের কর রেয়াত সুবিধা পাবেন না। সাধারণত সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করলে কর ছাড় পাওয়া যায়, কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে গেলে এই সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে।

বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত নির্ধারণের নিয়ম অনুযায়ী, মোট আয়ের শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, মোট অনুমোদিত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা—এই তিনটির মধ্যে যেটি কম, সেটিই কর রেয়াত হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সময়মতো রিটার্ন না দিলে এই সুবিধা আর প্রযোজ্য হবে না।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতারা ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে পারছেন। পাশাপাশি রিটার্ন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ এবং টিআইএন সনদ অনলাইনে ডাউনলোড ও প্রিন্ট করার সুবিধাও রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন টিআইএনধারীদের একটি বড় অংশ নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন না। অনেকেই শুধু বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা নেওয়ার প্রয়োজনে টিআইএন গ্রহণ করেন, কিন্তু কর রিটার্ন জমা দেন না। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন ও রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক হওয়ায় সচেতনতা কিছুটা বেড়েছে।

যেসব করদাতা ৩১ মার্চের আগে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করে অনুমোদন পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জরিমানা আরোপ হবে না। তারা বাড়ানো সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে নিয়মিত করদাতার মতোই সব সুবিধা পাবেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়া শুধু জরিমানা এড়ানোর বিষয় নয়, বরং দেশের কর ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত করদাতা বাড়লে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর