কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি / : 30
কুড়িগ্রামে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এ সময় তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও কৃষি উন্নয়নের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
রোববার (১০ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ খাল পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং পরে খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন ও পরিচর্যা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পানি সংকট তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকার সারাদেশে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মাধ্যমে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ, পানি সংরক্ষণ, মাছ চাষের উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরে সারাদেশে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে মোট ৭ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে ২০ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
এসময় তিনি উত্তরাঞ্চল ও হাওড় এলাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ উদ্যোগের কথাও জানান। তিনি বলেন, এসব এলাকায় বজ্র আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে। একই সঙ্গে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় আরাজী পলাশবাড়ী মৌজার দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ খাল পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে খাল পুনঃখনন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ধাপে জেলার ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর ও রৌমারী উপজেলায় মোট ৫৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এতে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম কুদরত এ খুদা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান এবং হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে ত্রাণমন্ত্রী লালমনিরহাট থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রামে পৌঁছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান নালিয়ারদোলা এলাকা পরিদর্শন করেন।
আকাশজমিন / আরআর